Sunday, December 14, 2014

আমার কবিতা



এখন আমার শুধু কবিতার সঙ্গে বসবাস
কবিতার সঙ্গে খাওয়া কবিতার সঙ্গে ঘুমানো
কবিতার সঙ্গে আপন মনে কথা বলা
কবিতার সাথেই আমি নির্ঝঞ্চাট বেঁচে থাকি
কবিতাই আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।

তারপর আমার মাথার দুপাশে নিথর হয়ে ঘুমায় কবিতা
একদিকে শামসুর রহমান, নির্মলেন্দুগুন
অন্যদিকে মহাদেব সাহা, হুমায়ুন আজাদ,
দাউদ হায়দার, অনাদরে পরে থাকে ওরা
যখন খুব বেশী নিঃষঙ্গবোধ করি
এদের কোন একজনকে জড়িয়েধরে আমি ঘুমিয়ে পরি
আমি স্বপ্ন দেখি কবিতা আমি স্বপ্ন দেখি রফিক আজাদ
আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় কবিতা, আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় সুকান্ত
আমি সকালে চায়ের বদলে পান করি কবিতা
আমি পান করি সৈয়দ শামসুল হক
আমি জীবনের প্রয়োজনে ঘর থেকে বেড়িয়ে পড়ি
আমার সাথে থাকে কবিতা, আমার সাথে থাকে বুদ্ধদেব বসু
ক্লান্ত দেহে সন্ধায় যখন বাসায় ফিরি
তখনও আমার সাথে থাকে কবিতা, আমার সাথে থাকে ত্রিদিব দস্তিদার,
এদের মাঝেই আমি নিজেকে খুজিঁ ফিরি বারবার।

০১.০৩.০৭

Saturday, December 13, 2014

আমাদের বাবা



তুমি কি এখনো অন্ধকারে বসে ভাবছো আমাদের কথা
এতো দ্রুত কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলে সেথা
তুমি ছিলে আমাদের জীবনে বটবৃক্ষের মতো
রক্ষা করতে রোদ বৃষ্টি ঝড় আসতো যতো
আজ তুমি নেই তুমি শুয়ে আছো অন্ধকার কবরে
আমাদের ঘরটা সর্বত্রই শুধুই তোমার শুন্যতা বিরাজ করে।

তোমার কি মনে পড়ে বাবা? সেই বহুকাল আগের কথা
তখনো আমি ছোট
শীতের রাতে তুমি কোলেতে জড়িয়ে নিতে আমার শরীর এবং মাথা
তোমার জামার পকেট থেকে না’বলে কতবার নিয়েছি কত টাকা
এখনতো আর আমাদের আলনাতে ঝুলে থাকেনা তোমার জামাটা।

তোমার ছোট দু’মেয়ে ফেন্সি এবং হেপী
এখন আরো বড় হয়েছে
তুমি কি এসে একবারও দেখে যাবে না
এখন তারা কি করছে?

আমার স্পষ্ট মনে পড়ে যায়
তুমি যেদিন চলে গেলে সেদিনের কথা
তুমি বলেছিলে, “আমার রোগের ঔষধ কি পাওয়া যাবেনা কোথা?”
আমি মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলাম
“আমি যাচ্ছি আনতে আপনি ঘুমান”
আমি আনতে পারিনি
আপনি সত্যি এখনো ঘুমিয়ে আছেন!

আমার বড্ড কান্না পায়
আমি কাঁদতে পারিনা
আমি চিৎকার করে কাঁদি
আমার চোখে জল আসে না।

২৭.০৮.০৩

হারিয়ে যাওয়া আমি



এখন আমি শীতের সকাল, রুক্ষতায় ঝরে গেছে আমার সকল পত্রপল্লব
এক সময় আমিও ছিলাম চীর বসন্তের চীর সবুজ
আমার শাখা প্রশাখা নতুন কুঁড়িতে শোভিত ছিল
আথচ আজ আমি হারিয়েছি সকল জৌলুস।

এখন আমি নাব্যতা হারিয়ে ফেলা নদীর বুকে জেগে উঠা চর
এক সময় আমিও ছিলাম তীব্র খরস্রোতা পদ্মা কিংবা মেঘনার মত
আমার বুকেও হেসে খেলে বেড়াতো ঝক্‌ঝকে রুপালী ইলিশ
অথচ আজ আমি খাঁ খাঁ বিরান মরুভুমি।

এখন আমি শেষ বিকেলের ঢলে পরা অস্তগামী সুর্যের মত
এক সময় আমিও ছিলাম তেজোদ্দীপ্ত চীর যৌবনা
আমার শরীর থেকেও নির্গত হতো আলফা বেটা কিংবা গামা রশ্মি
সুর্য যদিও পরদিনই ফিরে পাবে তার হারিয়ে যাওয়া শক্তি
অথচ আমিতো ফিরে পাবোনা আমার হারিয়ে হাওয়া অতীত।

এখন আমি যুদ্ধ ফেরত পরাজিত কোন সৈনিকের মত
মাথায় উশকো খুশকো চুল গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি
হাতে থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল শরীরে বুলেটবিদ্ধ হওয়া দগদগে ঘা
এক সময় আমারো ছিল পেশীতে তীব্র টানটান উত্তেজনা
আমার রক্তেও মহুর্তের মধ্যে খেলে যেতো বিদ্যুতের ঝিলিক
অথচ আজ আমার কি বির্বন চেহারা।

২৭.০৪.০৫

Monday, December 8, 2014

আমার সন্তান



আজ এইমাত্র তার পুর্নতা পেলো
সে ভুমিষ্ঠ হলো এই পৃথিবীর আলো বাতাস দেখল
দশ মাস দশ দিনে নয়
গুনে গুনে চারটি বছর পর তার জন্ম হল
আমি তার নাম দেই অসহ্য সুখ
আমি তার নাম দেই অহর্নিশ ভালোবাসা
আমি তার নাম দেই বোবা কষ্ট
আমি তার নাম দেই পাপের ফসল
আমি তার নাম দেই নিথর সমুদ্র

যে নামেই ডাকিনা কেন সে কেবলই আমার
সে আমার সন্তান
আমার ভিতর আমি তাকে তিল তিল করে
অনেক কষ্ট সয়ে ধারন করেছি
সে কেবলই আমার সন্তান
তার উপর তোমার কোনো অধিকার নেই
তুমি শুধু শুরুটাই করে দিয়েছ
এরপর আর পেছেন ফিরে তাকাওনি
যেরকম বেশ্যালয় থেকে পুরুষেরা বের হয়ে যাওয়ার পর
আর পেছন ফিরে তাকায়না, তুমিও সেই রকম ।

আমি তাকে আরো কিছুদিন ধারন করতে চেয়েছিলাম
আমার ভিতর, পারিনি।
সে এখন যথেষ্ট পরিপূর্ন
তার ভিষন কষ্ট হচ্ছিল আমার ভিতর
বারবার সে বিদ্রোহ করছিল।

যে আজ ভূমিষ্ঠ হল,
যে আজ এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর আলো বাতাসের স্বাদ পেল,
সে শুধুই একলা আমার সন্তান, আমার সন্তান।

২৮.০৫.০৭

Saturday, December 6, 2014

সুখসাগর

তোমাকে দেখলাম “সুখসাগর
কত শান্ত স্থির তুমি কোন ঢেউ নেই কোন ভয় নেই
মৃদুমন্দ বাতাস বয়ে যাচ্ছে তোমার উপর দিয়ে
তোমার স্বচ্ছ জলে তোমাকে দেখার নামে
আমি আমার প্রিয়াকে দেখি
কতদিন দেখা হয়নি আমার প্রিয়ার মুখখানি অমন করে
কতদিন বলা হয়নি “আহা... তুমি কত সুন্দর”।

আজ আমি তোমাকে দেখছি অপলক নয়নে,
দু-কুল ছাপিয়ে উঠা আমার উচ্ছাসে,
আমার সুতীব্র আবেগে, আমার কামনায়,
আমার মুগ্ধতায়, আমি তোমাকে দেখি “সুখসাগর”।

আমার দৃষ্টি ফেরে না, তোমাকে দেখার নামে
আমি আমার প্রিয়াকে দেখি।
আমি স্থির হই, আমি স্তিমিত হই,
একটা ভিন্ন রকম অনুভুতিতে আমি নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকি
আমি তোমাকে দেখি “সুখসাগর”
তোমাকে দেখার নামে আমি আমার প্রিয়াকে দেখি।

(দিনাজপুর জেলার বিখ্যাত রাজবাড়ির পাশে পুরোনো এক
বিশাল দিঘি, স্থানীয় লোকজন এর নাম দিয়েছে “সুখসাগর”।
সেই সুখ সাগর কে নিয়ে লেখা আমার এই কবিতা। উল্লেখ্য যে
দিনাজপুরে “রামসাগর দিঘি” নামে একটি বিখ্যাত দিঘি আছে।)

১১.০৪.০৭