Wednesday, November 26, 2014

প্রিয় মেঘনা



আমার সেই প্রিয় নদীটা
স্বচ্ছ জল, নিস্তরঙ্গ তার দেহটা, ঝকঝকে রুপালী ইলিশ, জেলেরা মাছ ধরছে,
ভেঁপু বাজিয়ে যাচ্ছে ট্রলার লঞ্চ, ছেলেমেয়েরা পানিতে দাপাদাপি করে স্নান করছে।

তুই আমার সেই প্রিয় নদীটা
তোর বুকে জেগে উঠা চরে আমরা কত বালিয়াড়ির ঘর বানিয়েছিলাম
তোর মৃদুমন্দ জোয়ার এসে তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের পা ছুঁয়ে যেতো
কি ভিন্ন রকম একটা অনুভুতি ছিল
কত শান্ত আর নিথর ছিলি তুই
তোর সামনে গিয়ে দাড়ালে চট্‌ করে মনটা ভাল হয়ে যেতো
তুই আমাদের কত আপন করে নিয়েছিলি।

অথচ এই কয়’টা বছরে তুই নিজেকে একেবারেই আমুল পাল্টে নিলি?
দিনরাত আমরা এখন তোর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত
আমাদের উপর বুঝি তোর এখন ভিষন অভিমান?
প্লীজ বল না? আমায় একটু বল?
আমরা কি তোকে খুব কষ্ট দিয়েছি?

তোর এক একটা ঢেউ আমাদের কাছে এখন পাহাড় সমান
আমরা যে আর সইতে পারছি না রে
তোর বুঝি ভীষন ক্ষিধে পেয়েছে?
সামান্য ভাঙ্গনে তোর বুঝি এখন আর মন ভরছে না
তাই কি তুই দিনের পর দিন গাভীন হচ্ছিস
গ্রাস করে নিচ্ছিস আমাদের মাথাগোঁজার শেষ ঠাইঁটুকু

প্লিজ তুই ফিরে আয় না?
আমাদের চাঁদপুরবাসীর হৃদয়ে ফিরে আয়
আমার সেই প্রিয় নদীটা হয়ে।

৩০.০৫.০৬

ভুলে কি থাকা যায়



সম্পর্কটা ভেঙ্গে দিবে বললেই কি ভেঙ্গে যায় সব যোগাযোগ
মুছে কি যায় সব অক্ষত স্মৃতি
মুছে কি যায় হৃদয়ের সব চীরচেনা অলিগলি
সেই প্রথম তোমার হাতে হাত রাখা
খুব কাছাকাছি ঘনিষ্ঠ হয়ে গাঁ ঘেষে বসা
ভুলে কি থাকা যায়

ভুলে কি থাকা যায় সেই প্রথম দেখার দিন
বৃষ্টিভেজা যে দিন আমার জীবনকে করেছে রঙ্গীন
বলো ভুলে কি থাকা যায়

ভুলে কি থাকা যায় সেই অন্ধকার কফিশপে বসে এক চুমুক কফি খাওয়া
আলোআধাঁরির মায়াময় দৃষ্টি নিয়ে দুজনের আপলক তাকিয়ে থাকা

ভুলে কি থাকা যায় সেই প্রথম তোমার হাত ধরার দিন
তোমার কাঁপাকাঁপা হাত তুমি আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললে,
“আমার হাতটা একটু ধরবে?”
আমি রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বললাম “আমি পাইলাম, ইহাকে পাইলাম”

আমি কেমন করে ভুলি আমার সেইসব দিনগুলি
বলো ভুলে কি থাকা যায়

২২.০৩.০৭

Tuesday, November 25, 2014

কোন এক রাতে ঢাকার রাস্তায়



সবাই চলে যাচ্ছে যার যার ঘরে
সবারই তাড়া আছে কিছু না কিছু
কারো মা আছে বোন আছে কারো বৌ আছে কারো বাচ্চা আছে
সবাইকেই ঘরের দিকে টানে তীব্রভাবেই টানে
শুধু আমাকে টানেনা, কোন ঘর বা সংসার আমাকে টানেনা
শুধু আমার কোন তাড়া নেই, যেন আমি বন্ধনহীন
যেন আমি এই পৃথিবীতে ভুল করে অনুপ্রবেশ করেছি
যেন আমি ভুল মানুষ।

রাত গভীর হচ্ছে
রাস্তায় মানুষের কোলাহল ধীরে ধীরে কমছে
যানবাহনের সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে, আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি
আমার কোন তাড়া নেই
আমায় শুধু টানে রাতের নীরবতা
আমায় শুধু টানে বৃক্ষরাজি ফুল ও লতা।

রাত গভীর হচ্ছে
আমি নিষ্কাম দাঁড়িয়ে থাকি, মিলনের পর মানুষগুলো
যে রকম নিথর হয়ে পড়ে সেই রকম
আমি অনুভুতিহীন দাঁড়িয়ে থাকি
জাগতিক সুখ কিংবা দুঃখ আমাকে স্পর্শ করে না
আমাকে স্পর্শ করে না হাত কিংবা পা বিহীন কোন বিকলাঙ্গ মানুষের দুঃখ
কেননা আমি অসম্পুর্ন নই
আমাকে স্পর্শ করে না দৃষ্টিহীন মানুষের অক্ষমতা
কেননা এই সুন্দর অথবা ঘৃন্য পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে দৃশ্যমান
আমাকে স্পর্শ করে না ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষের কষ্ট
কেননা আমারতো একটা মাথাগোজার ঠাইঁ আছে
আমাকে স্পর্শ করে না এসিডে ঝলসে যাওয়া কোন নারীর মুখের বিভৎষতা
কেননা আমিতো পুরুষ(ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আমায় পুরুষ তৈরী করেছেন)।

রাত গভীর হচ্ছে
আমি আনমনে হাঁটতে শুরু করেছি
নাহ্‌ ভুল করিনি, বাসার উদ্দেশ্যেই হাঁটছি
কেননা আমিও রক্ত মাংসের গড়া তীব্র এক মানুষ।

০৭.০৯.০৭

Sunday, November 23, 2014

দশ বছর পর কোন এক দিন



দশ বছর পর হঠ্যাৎ কোন এক দিন
দেখা হয়ে গেল রাস্তায়
অকষ্যাৎ,আনমনা, অপ্রস্তুত মুখোমুখি দু’জনে
থমকে দাড়ালাম নাগরিক ব্যস্ততায়।

তোমার চোখের দিকে তাকালাম
আমার ভিতর ঘটে গেলো কান্ড তুলকালাম
তোমার মুখের বলিরেখা দিচ্ছে বয়সের আভাস
আমি আনত তাকিয়ে দেখি আমার পুরানো অভ্যাস।

তোমার নুয়ে পরা স্তন, স্তনের বোটা,
আমাকে মনে করিয়ে দেয় সেই জগৎটা
তোমার সুন্দর গ্রীবা, ছোট্ট থুতুনি, পুতুলের মতো নাক,
নাকের ডগায় জমে থাকা ঘাম
সব কিছুর মূলে আছে শুধু একটাই বস্তু, শুধুই কাম।

অথচ এখন সব কিছুই মলিন!
তোমার চোখের কাজল সেই কবে লেপ্টে গেছে
একটুও ভ্রুক্ষেপ নেই সে দিকে তোমার
অথচ দেখো, আমি এখনো তোমার জন্য সতেজ তাজা প্রান
এই বুকের মধ্যে যত্ন করে রেখেছি বকুল ফুলের ঘ্রান।

তোমার মনে নেই?
সেই যে প্রথম দেখায় তোমায় বকুল ফুলের মালা দিলাম
তোমার দু’চোখ ভরা আনন্দ সেদিন আমি দেখেছিলাম
আমি আজো তোমার জন্যে নিজ হাতে বকুল ফুলের মালা তৈরী করি
জানি, আমার ধবংসের পথ আমি এইভাবেই গড়ি।

তোমার মলিন মুখখানি......, আহা......,
যে মুখখানি আমি আমার করতলে নিয়ে বলতাম “তুমি আমার সোনামনি বৌ”
তুমি লাজুক হাসিতে তোমার মুখখানা আমার বুকে গুজে দিতে
এক তীব্র সুখ অনুভব করতাম এইবুকে
আজ সেখানে শুধুই হাহাকার, গুমড়ে কাঁদায় আমাকে।

দশ বছর তো কম সময় নয়!
তবুও দেখো কেমন মসৃন মনে পড়ে যায় আমার সেইসব অক্ষত স্মৃতি
তুমি আমার পাশেই দাড়িয়ে, অথচ অনভ্যাসে অনভ্যাসে
তোমাকে এখন আমার অনেক দুরের মনে হয়।

তুমি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছো, 
কিছু একটা বলার চেষ্টা করছো অথচ বলছো না,
আমি তোমার মুখের ভাষা পড়ার চেষ্টা করছি, বলবে কিছু? প্লিজ বলো?
আমি শুনতে চাই সেই কথাটি, 
তুমি শুধু একবার বলো “সম্‌ আমায় আবার ভালোবাসবে?
সম্‌ আমাকে তোমার বুকে একটু ঠাইঁ দেবে?”
তারপর দেখো কত যত্ন করে আমি তোমাকে ভালোবাসি
কত শক্ত করে আমি তোমায় এই বুকে বেধে রাখি।

একটু পরেই আমি সম্বিত ফিরে পাই, তুমি বলছো “যাই তাহলে”।

০৫.০৬.০৭