আমার সেই প্রিয় নদীটা
স্বচ্ছ জল, নিস্তরঙ্গ তার দেহটা, ঝকঝকে
রুপালী ইলিশ, জেলেরা মাছ ধরছে,
ভেঁপু বাজিয়ে যাচ্ছে ট্রলার লঞ্চ,
ছেলেমেয়েরা পানিতে দাপাদাপি করে স্নান করছে।
তুই আমার সেই প্রিয় নদীটা
তোর বুকে জেগে উঠা চরে আমরা কত
বালিয়াড়ির ঘর বানিয়েছিলাম
তোর মৃদুমন্দ জোয়ার এসে তীরে দাঁড়িয়ে
থাকা আমাদের পা ছুঁয়ে যেতো
কি ভিন্ন রকম একটা অনুভুতি ছিল
কত শান্ত আর নিথর ছিলি তুই
তোর সামনে গিয়ে দাড়ালে চট্ করে মনটা
ভাল হয়ে যেতো
তুই আমাদের কত আপন করে নিয়েছিলি।
অথচ এই কয়’টা বছরে তুই নিজেকে একেবারেই
আমুল পাল্টে নিলি?
দিনরাত আমরা এখন তোর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত
আমাদের উপর বুঝি তোর এখন ভিষন অভিমান?
প্লীজ বল না? আমায় একটু বল?
আমরা কি তোকে খুব কষ্ট দিয়েছি?
তোর এক একটা ঢেউ আমাদের কাছে এখন পাহাড়
সমান
আমরা যে আর সইতে পারছি না রে
তোর বুঝি ভীষন ক্ষিধে পেয়েছে?
সামান্য ভাঙ্গনে তোর বুঝি এখন আর মন
ভরছে না
তাই কি তুই দিনের পর দিন গাভীন হচ্ছিস
গ্রাস করে নিচ্ছিস আমাদের মাথাগোঁজার
শেষ ঠাইঁটুকু
প্লিজ তুই ফিরে আয় না?
আমাদের চাঁদপুরবাসীর হৃদয়ে ফিরে আয়
আমার সেই প্রিয় নদীটা হয়ে।
৩০.০৫.০৬