Wednesday, January 7, 2015

আমার বেঁচে থাকা



আমার নিত্য ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র জানান দেয় আমি একা
আমার একটা চায়ের কাপ একটা গ্লাস একটা প্লেট
একটা টেবিল একটা চেয়ার আমাকে জানান দেয় আমি একা।

একাকীত্বের সংজ্ঞা কি আমি জানিনা
আমি শুধু অনুভব করি আমি ভিষন একা।

আমি ঘর থেকে বের হয়ে রিক্সায় চড়ি
আমার বা’পাশের সিট্‌টা খালি পরে থাকে
আমার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রিক্সার দিকে আমি তাকিয়ে থাকি
যুগলবন্দী হয়ে চলে যাচ্ছে রিক্সাগুলি।

একাকীত্বের সংজ্ঞা কি আমি জানিনা
আমি শুধু অনুভব করি আমি একা।

ছয়’তলার সিঁড়ি ভেঙ্গে আমি টির্চাস রুমে ঢুকি
কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকায় না, বলে না কেমন আছেন
অনির্দ্দিষ্ট কোন এক চেয়ারে বসে একটু জিরিয়ে নেই
তারপর ক্লাসরুমে ঢুকি, ক্লাস শেষ হলে কাউকে কিছু না’বলে বেড়িয়ে পড়ি
আবার ছয়’তলার সিঁড়ি ভেঙ্গে রাস্তায় নেমে আসি।

একাকীত্বের সংজ্ঞা কি আমি জানিনা
আমি আবার অনুভব করি আমি একা।

ক্লান্ত দেহে বাসায় ফিরে টেবিলের উপর আঁতিপাঁতি করি খুঁজতে থাকি
আমার প্রিয়ার কোন চিঠি এলো কিনা
কখনো পাই কখনো পাইনা
তারপর ভাত খাওয়া একটু বিশ্রাম নেওয়া
ক্লান্ত দেহটা শ্রান্ত হতে না হতে অর্থের খোঁজে আবার বেড়িয়ে পরি
সবশেষে আমি চলে যাই আমার প্রিয় ধানমন্ডি লেকে
আমার প্রিয় জায়গাটাতে বসি একদিক ওদিক তাকাই লোকেলোকারন্য পার্কটা
সবার সাথেই কেউ না কেউ আছে পাশেই কয়েকটা ছেলে বসে আড্ডা মারছে
এক জোড়া দম্পতি এসেছে সন্তান-সন্ততি সহ
আবার কেউবা এসেছে তার প্রিয় মানুষ কে নিয়ে
আমি সন্ধ্যার আকাশের দিকে তাকাই
সারা আকাশ একটা মাত্র তারা দেখা যচ্ছে
বড় নিঃসঙ্গ মনে হলো তাকে
যেনো তার কথা বলার কেউ নেই যেনো সে আমারই মতো

একাকীত্বের সংজ্ঞা কি আমি জানিনা
আমি আবার অনুভব করি আমি একা।

শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে ধীরে ধীরে বাসায় ফিরি
দরজায় তালা পকেটে চাবি আমি ঘরে প্রবেশ করি
বদ্ধ রুমের গুমোট গন্ধ আমাকে জানান দেয় মানুষের অস্তিত্বহীনতাকে
আমি জরাজীর্ন দেহটাকে এলিয়ে দেই আমার নোংরা বিছানাতে
আমার বিছানায় একটা বালিশ মাথার নীচে পরে থাকে
আমি ভুল করে ডানে বামে হাত দিয়ে কারো অস্তিত্ব আবিষ্কার করার ব্যার্থ চেষ্টা করি।

একাকীত্বের সংজ্ঞা কি আমি জানিনা
আমি আবারও অনুভব করি আমি একা, আমি ভিষন একা।

১২.০৫.০৫।

No comments:

Post a Comment